ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রিয় পাঠক, আপনি ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা জানার জন্য অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন । তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন, আজকের পোস্টটি আপনার জন্য। কেননা আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। তাই আজকের পোস্টটি না টেনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা
এছাড়াও এখানে আমরা আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা, বাচ্চাদের ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা, লাল ড্রাগন ফলের উপকারিতা, সাদা ড্রাগন ফলের উপকারিতা, ড্রাগন ফলের খোসার উপকারিতা, ড্রাগন ফল কত টাকা কেজি এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরব যা সকলের জানা খুবই প্রয়োজন।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা 

ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ একটি ফল ড্রাগন। এর ক্যালরির মাত্র তুলনামূলক কম। তবে এতে যথেষ্ট পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে। আমাদের দেশে ড্রাগনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অত্যন্ত মিষ্টি এবং জনপ্রিয় ড্রাগন ফল বিভিন্ন উপকারিতা সম্পন্ন একটি ফলমূল। জেনে নিন ড্রাগন ফলের উপকারিতা সমূহ-

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়ঃ
নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কারণ এতে আছে ক্যান্সারবিরোধী উপাদান। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কাজ করে এই ফল। ড্রাগন ফলে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই এই ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে দ্রুত। এটি ক্যান্সার ছাড়াও আলঝাইমার্স, পারকিনসন, ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমায়।

হজমে সাহায্য করেঃ
যাদের খাবার সহজে হজম হয়না, পেটে সারাক্ষন অসুখ লেগেই থাকে ব্যথা হয় তাদের জন্য ড্রাগন অনেক উপকারী। যাদের খাবার হজম করতে সমস্যা হয় তারা যদি নিয়মিত ড্রাগন ফল খায় তাদের খাবার হজম সমস্যা দূর হয়। যেহেতু ড্রাগনে ফাইবার রয়েছে তাই এটি পরিপাক তন্ত্র সুস্থ রাখে ফলে পরিপাক ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। 


ড্রাগন ফল দেহের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। আর ব্যাকটেরিয়া হজম শক্তি বাড়ায়। তাই যারা হজমের সমস্যায় বা পেটের অসুখে ভুগছেন তারা নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে উপকার পাবেন। কারন ড্রাগন ফল আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

হার্টের উপকার করেঃ
হার্টের জন্য উপকারী ড্রাগন ফল। এর ক্ষুদ্র কালো বীজগুলো ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এগুলো হার্টের জন্য খুবই ভালো এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এর ঝুঁকি কমায়। তাই এই ফল খাওয়া হার্টের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। এটি হার্ট ভালো রাখার পাশাপাশি, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখেঃ
অধিকাংশ ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। এটা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিসে হাড় এতই দুর্বল হয়ে যায় যে সহজেই ভেঙে পড়তে পারে।

এক বাটি ড্রাগন ফলে দৈনিক সুপারিশকৃত ম্যাগনেসিয়ামের প্রায় ১৮ শতাংশ পাওয়া যায়। জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, মাসিক চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এমন নারীদের হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ড্রাগন ফল বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ
আামাদের শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ড্রাগন ফল হৃদপিন্ডকেও সুস্থ রাখতে অনেকটা সাহায্য করে থাকে। একটি রিসার্চচ দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন মাএ ১ টি করে ড্রাগন ফল খেয়েছে তাদের কোলেস্টেরল মাএা ৪.৪% কমেছে এবং যারা প্রতিদিন ২ করে খেয়েছে তাদেরও অনেকটাই কমেছে ৯.৪% ।

বয়সের ছাপ দূর করেঃ
ড্রাগন ফল নিয়মিত খেলে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর হয়। ত্বক কে উজ্বল করে, ত্বকের কালো দাগ দূর হয়, ফলে অনেক আকর্ষণীয় লাগে দেখতে। তাই যারা নিয়মিত ড্রাগন ফল খায় তাদের বয়সের তুলনায় দেখতে ছোট লাগে। ড্রাগন ফলে আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকার কারনে বয়স বৃদ্ধি হলেও ত্বক বুড়িয়ে যায় না।

ত্বক ও চুলের জন্য উপকারীঃ
ড্রাগন ফলে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের সতেজতা বজায় রাখে এবং বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতি রোধ করে। ড্রাগন ফলের বীজে থাকা ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের জন্য উপকারী।

ব্রনের সমস্যায় ড্রাগনঃ
ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি থাকায় টপিকাল মলম হিসেবে কাজ করে। মুখে ব্রনের অন্যতম কারন ভিটামিন সি এর অভাব। তাই ড্রাগন ফল নিয়মিত খেলে ব্রন সমস্যা দূর হয়। ব্রন আক্রান্ত স্থানে ড্রাগন ফল পেষ্ট করে লাগালেও ব্রন দূর হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণেঃ
ড্রাগন ফল প্রচুর ভিটামিন সি দ্বারা সমৃদ্ধ। এটি ওজন বজায় রাখতে বা হ্রাস করতেও সহায়তা করতেও অনেক সহায়তা করে । এই ফলটিতেব ৮০ শতাংশই পানি রয়েছে । ড্রাগন হচ্ছে এমন একটি ফল যা প্রচুর পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ, যা নিশ্চিত ভাবে আপনার অন্ত্রের গতিবিধিকেও সঠিক নিয়ন্ত্রণ করবে।

কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করেঃ
ড্রাগন ফলের মধ্যে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম আছে, আর এই পটাশিয়াম মানবদেহের কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও কিডনিতে পাথর জমতে বাধা প্রদান করে। তাই আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত অল্প পরিমানে ড্রাগন ফল খেতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধঃ
একটি পরিপক্ক ড্রাগন ফলে প্রায় ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা দৈনিক সুপারিশকৃত পরিমাণের চারভাগের প্রায় একভাগ। এটা অন্ত্রের বর্জ্য দূরীকরণেও অনেক সাহায্য করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা রয়েছে তারা এই ফল খেলে অনেকেটাই উপকার পাবেন।

ড্রাগন ফল দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ
ড্রাগন ফলে বিটা ক্যারোটিন নামক উপাদান যা দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখতে সহায়তা করে। ড্রাগন ফলে রয়েছে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সহায়ক। ড্রাগন ফল ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি ফল যা ভিটামিন এ তে পরিনত হয়ে চোখের ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এর ঝুঁকি কমায়। গবেষনা থেকে প্রমানিত হয়েছে যে, ম্যাকুলার ডিজেশনে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রুগীদের চোখের দৃষ্টি উন্নত হয়।

ড্রাগন ফলের অপকারিতা

ড্রাগন ফল যেমন অনেক উপকারী সেই সাথে এর রয়েছে কিছু ক্ষতিকর বা অপকারী বৈশিষ্ট্য। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ড্রাগন ফলের কিছু অপকারী দিক-

অ্যালার্জির সমস্যাঃ যাদের আ্যলার্জির সমস্যা রয়েছে ড্রাগন ফল খাওয়ার পরে আ্যলার্জি বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে অতিরিক্ত চুলকানি হতে পারে, শরীর ফুলে যেতে পারে। তাই যাদের আ্যলার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের ড্রাগন না খাওয়াই ভাল।

পাচনতন্ত্রের সমস্যাঃ ড্রাগন ফল খেলে কিছু মানুষের পাচনতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হতে পারে, যা সাধারণত পেট ব্যথা, বমিশ্বর বা অতিসার এবং পাচনতন্ত্রিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতাগুলি যা গর্ভবতী মহিলারা কাজে লাগাতে পারেন তার পরিমাণ অঢেল।ড্রাগন ফল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য একটা স্বাস্থ্যকর মাত্রায় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং তার সাথে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানগুলিরও যোগান দেয়।


সম্ভবত এখনও অনেক মা রয়েছেন যারা গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারগুলো জানেন না। প্রকৃতপক্ষে, যে ফলটি সহজেই কোথাও পাওয়া যায় তা আপনার চাহিদা এবং গর্ভের ভ্রূণের জন্য পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা গুলো জেনে নিন-

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়ঃ
ড্রাগন ফ্রুট মধ্যস্থ এর আয়রণ উপাদানটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তকোষের অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতাকে উন্নত করতে সহায়তা করে। ফলস্বরূপ, এটি বেশিরভাগ মহিলাদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনাকেও হ্রাস করে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট একটি উৎসঃ
গর্ভাবস্থায় কেবলমাত্র শক্তির উৎস হিসেবে ফ্যাট প্রয়োজন হয় না। আপনার পেটে বাচ্চার মস্তিষ্কের বৃদ্ধি সমর্থন করার জন্য ফ্যাট প্রয়োজন। ড্রাগন ফলের একটি পরিবেশনে ০.১-০.৬ গ্রাম ফ্যাট থাকে যা বেশিরভাগ অসম্পৃক্ত ফ্যাট ধারণ করে।

হাড়ের বিকাশে সহায়তা করেঃ
ভ্রূণের হাড় গঠণের বিকাশের জন্য প্রয়োজন এমন একমাত্র খনিজ কেবল ক্যালসিয়ামই নয়, ফসফরাসও এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর এই দুটোই ড্রাগন ফ্রুটের মধ্যে বেশ ভালো মাত্রায় উপস্থিত। এগুলি আবার মায়ের দাঁতের ভাল স্বাস্থ্য বজায় রাখারও কাজ করে।

শারীরিক বিকাশ গঠনের ড্রাগন ফলঃ
ড্রাগন ফলে ফোলেট ভিটামিন বি ও আয়রন আছে। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন বি ও ফোলেট শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে রক্ষা করে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। ড্রাগন ফলে থাকা ক্যালসিয়াম মা ও ভ্রূনের বিকাশের জন্য উপকারী। এতে ম্যাগনেসিয়াম আছে যা নারীদের পোষ্টমেনপজাল জটিলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

হজমে সাহায্য করেঃ
ড্রাগন ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ রয়েছে। গর্ভবতী মায়েদের হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যতার লেগেই থাকে। গর্ভবতী মায়েরা ড্রাগন ফল খেলে ড্রাগন ফলে আঁশ থাকার জন্য হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর হয়।

বাচ্চাদের ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা

ড্রাগন ফলে বিভিন্ন রকম ভিটামিন,ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনে পুষ্টির দ্বারা পূর্ণ হয়ে থাকে। ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও আয়রন সবকিছু ধরাই পরিপূর্ণ ড্রাগন ফল খাওয়ালে বাচ্চাদের রক্ত চলাচল অনেক বৃদ্ধি করে। যদিও শিশুদের ড্রাগন ফল খাওয়ার জন্য এক বছর অব্দি অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু কিছু মা তাদের ছয় মাস বয়সেই ড্রাগন ফল খাওয়াই। অ্যালার্জি সমস্যা না হলে ড্রাগন ফল ভালোভাবে খাওয়াতে থাকে।

আয়রনের ভাল উৎসঃ
ড্রাগন ফল লোহ বা আয়রনে সমৃদ্ধ বলে লোহিত রক্তকণিকার গণনা বাড়াতে দুর্দান্ত। এটি রক্তাল্পতা, একটি ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধ করে যা শিশুদের মধ্যে অনেকগুলি উন্নয়নমূলক ব্যাধি ঘটাতে পারে। সমৃদ্ধ আয়রন সামগ্রী চুলের স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি প্রচারেও প্রয়োজনীয়।


অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসঃ
ড্রাগন ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এগুলি আপনার শিশুর কোষগুলিকে সুরক্ষা দেয় এবং দেহের ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করে। এটি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায় এবং এগুলি রোগের ঝুঁকি কমায়।

ফাইবারযুক্ত শাঁসঃ
আপনার সন্তানের অন্ত্রের সুস্থ চলাচল এবং পাচনতন্ত্র বজায় রাখতে ফাইবার প্রয়োজনীয়। এটি চিনির সামগ্রীকেও স্থিতিশীল করে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বাড়াতে ও স্থূলত্ব এড়াতে সহায়তা করে।

কিডনির জন্য ভালঃ
ড্রাগন ফলের ডিটক্সিফিকেশনের প্রভাব শরীরকে ক্ষতিকারক রাসায়নিকগুলি থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। এটি ইউরিনারি সিস্টেম স্বাস্থ্যকরভাবে পরিচালন করতে সহায়তা করে।

লাল ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ড্রাগন ফলটির চাষ এখন আমাদের বাংলাদেশেই হচ্ছে। ড্রাগন ফলের দেখা মিলছে প্রায় সবখানেই। ড্রাগন ফল দুই ধরনের হয় যেমন ভেতরের অংশ লাল ও সাদা। দেখতে ও খেতে অনেক সুস্বাদু ও এর পাশাপাশি পুষ্ঠিগুণের দিক দিয়ে ড্রাগন ফলটি অত্যন্ত উপকারী। নিচে আরো বিস্তারিত জানানো হলো-

লাল ড্রাগন ফলের উপকারিতা
  • প্রতি ১০০ গ্রাম লাল ড্রাগন ফলে রয়েছে ৫০-৬০ গ্রাম ক্যালরি, ৯-১৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১-২ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার, ৮-১২ গ্রাম চিনি, ১-২ গ্রাম প্রোটিন, ১ গ্রামের কম চর্বি।
  • ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। ক্যালরি কম থাকায় এই ফল খেলে ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এতে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন ও লাইকোপেনের মতো অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট আছে। আরও আছে ফাইবার ও আয়রন, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
  • ড্রাগন ফলের ছোট কালো বীজে রয়েছে ওমেগা থ্রি ও ওমেগা নাইন ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো হার্টের জন্য উপকারী।
  • হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলো ড্রাগন ফল। এটি আমাদের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যে কারণে হজম ক্ষমতাও ভালো হয়।
  • ড্রাগন ফলে প্রচুর প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষ করে হাড়ের জন্য দরকারি পটাশিয়াম আর ক্যালসিয়ামের দারুণ উৎস এটি। শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ঠিক রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

সাদা ড্রাগন ফলের উপকারিতা

সাদা মাংসযুক্ত ড্রাগন ফলঃ প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রায় ৬০ গ্রাম ক্যালরি, ৯-১৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৮-১২ গ্রাম চিনি, ১-২ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার, ১-২ গ্রাম প্রোটিন, ১ গ্রামের কম চর্বি।

ড্রাগন ফলের খোসার উপকারিতা

ড্রাগন ফলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। পাশাপাশি এর খোসারও উপকারিতা রয়েছে। বিভিন্ন ফল খাওয়ার পর সেগুলোর খোসা আমরা ফেলে দেই, খোসার উপকারিতা সম্পর্কে না জানার কারণে। ড্রাগন ফলের খোসা ত্বকে ব‍্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের অনেক উপকার হয়।

ড্রাগনফলের খোসায় এক চামচ লেবুর রস ও আধা চামচ চিনি মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে বেশ কিছুক্ষণ ঘষাঘষি করুন। এতে ত্বক নমনীয় হয়, কালো দাগ দূর হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ড্রাগন ফলের খোসা ভিটামিন সি, প্রোটিন ও বিটাক‍্যারোটিন সমৃদ্ধ।

ড্রাগন ফল কত টাকা কেজি

বর্তমান বাজারে ভালো কোয়ালিটির ১ কেজি ড্রাগন ফলের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এবং সাধারণ কোয়ালিটির ১ কেজি ড্রাগন ফলের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। তবে স্থান ভেদে এর দাম কম বেশি হতে পারে।

শেষ কথাঃ ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে ড্রাগন ফলে উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়েছেন। ড্রাগন ফলে কি কি ভিটামিন আছে সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লাগে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং আপনার মতামত জানাবেন ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Umme Haney'র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url